কোরিয়াতে পড়াশোনা এবং পার্ট-টাইম কাজ: শিক্ষার্থীদের জন্য বাস্তব তথ্য


 


কোরিয়াতে পড়াশোনা এবং পার্ট-টাইম জব: কি আপনার জন্য সম্ভব?

দক্ষিণ কোরিয়া, বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় গন্তব্য উচ্চশিক্ষার জন্য, কিন্তু সেখানে পড়াশোনার পাশাপাশি নিজের খরচ বহন করা কতটা সম্ভব? এই প্রশ্নটি প্রায়ই শিক্ষার্থীরা করেন, বিশেষত যারা কোরিয়াতে আসতে চান। তবে, এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন এবং এর উত্তর অনেকাংশেই নির্ভর করে আপনার প্রস্তুতি এবং ভাষার দক্ষতার উপর। আজকের এই পোস্টে আমি কোরিয়াতে পড়াশোনা এবং পার্ট-টাইম কাজের সম্ভাবনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করতে যাচ্ছি।

কোরিয়ান ভাষা না জানলে কোরিয়াতে অচল

প্রথমেই একটি বাস্তব কথা বলি—কোরিয়ান ভাষা না জানলে কোরিয়াতে আপনি অনেকটাই অচল। কোরিয়ান ভাষা জানলে, চাকরি এবং দৈনন্দিন জীবন, উভয় ক্ষেত্রেই আপনার জন্য আরো বেশি সুযোগের দরজা খুলে যায়। যে যত ভালো কোরিয়ান ভাষা জানে, তার জন্য তত বেশি সুযোগ থাকে, বিশেষ করে চাকরি পাওয়ার ক্ষেত্রে। তাই, আমি সবসময় শিক্ষার্থীদের পরামর্শ দিই—অন্তত বেসিক কোরিয়ান ভাষা শিখে আসুন অথবা কোরিয়ান ল্যাঙ্গুয়েজ প্রোগ্রাম-এ অংশগ্রহণ করুন।

কোরিয়ান ল্যাঙ্গুয়েজ প্রোগ্রাম-এর মাধ্যমে সুবিধা

যদি আপনি কোরিয়ান ভাষা শিখে আসেন অথবা কোরিয়ান ল্যাঙ্গুয়েজ প্রোগ্রাম-এ অংশগ্রহণ করেন, তবে আপনার হাতে প্রায় ২ বছরের সময় থাকে ব্যাচেলর প্রোগ্রামে যাওয়ার জন্য। এই ২ বছরের মধ্যে আপনি যেকোনো Korean Track অথবা English Track এ ব্যাচেলর প্রোগ্রামে ট্রান্সফার করতে পারেন। এর ফলে, আপনি কোরিয়ান ভাষা শিখতে শিখতে উচ্চশিক্ষার জন্য প্রস্তুত হতে পারবেন এবং ভবিষ্যতে কাজের ক্ষেত্রে সুযোগ পেতে কোনো সমস্যা হবে না।

প্রথম ৬ মাস কাজ না করার উপকারিতা

আমরা জানি, কোরিয়ার অধিকাংশ বিশ্ববিদ্যালয় প্রথম ৬ মাস কাজের অনুমতি দেয় না। তবে, আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি, শিক্ষার্থীদেরও প্রথম ৬ মাস কাজ না করা উচিত। এই সময়টা পুরোপুরি ভাষা শেখার জন্য ব্যয় করা উচিত। যদি একজন শিক্ষার্থী এই সময়টাতে ভাষায় দক্ষ হয়ে ওঠে, তবে ভবিষ্যতে তাকে আর পিছনে ফিরে তাকাতে হবে না। যখন তার ভাষার ভিত শক্ত হয়ে যাবে, তখন সে খুব সহজেই বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমতি নিয়ে পার্ট-টাইম কাজ করতে সক্ষম হবে।

পার্ট-টাইম জব দিয়ে কিভাবে খরচ বহন করবেন?

এখন আসুন, কোরিয়াতে পার্ট-টাইম কাজ করে শিক্ষার্থীরা কতটুকু আয় করতে পারে এবং তার মাধ্যমে নিজেদের খরচ কতটা মেটাতে পারে, তা বিশ্লেষণ করি।

মাসিক আয়

একজন শিক্ষার্থী কোরিয়াতে পার্ট-টাইম কাজ করে গড়ে ২ লক্ষ টাকা (বাংলাদেশি টাকায়) আয় করতে পারে। ধরা যাক, সে যদি বাসা ভাড়া এবং অন্যান্য খরচে ১ লক্ষ টাকা খরচ করে, তবে ১ লক্ষ টাকা সেভ করা সম্ভব

প্রথম ৬ মাসে কাজ না করলে সঞ্চয়

যদি একজন শিক্ষার্থী কোরিয়ান ভাষা প্রোগ্রাম-এ অংশগ্রহণ করে প্রথম ৬ মাস কাজ না করে, তবে বাকি ১৮ মাসে প্রতি মাসে ১ লক্ষ টাকা সেভ করলে মোট সঞ্চয় হবে ১৮ লক্ষ টাকা

ব্যাচেলর প্রোগ্রামের সময় সঞ্চয়

এরপর, যখন শিক্ষার্থী Bachelor Program-এ যায়, তখন তার হাতে ৪৮ মাস (৪ বছর) সময় থাকবে। এই সময়েও যদি প্রতি মাসে ১ লক্ষ টাকা করে সেভ করে, তবে মোট সঞ্চয় হবে ৪৮ লক্ষ টাকা

টিউশন ফি

ধরা যাক, Bachelor পড়াশোনা চলাকালে, প্রতি সেমিস্টারে গড়ে ৩ লক্ষ টাকা টিউশন ফি লাগে। মোট টিউশন ফি হয়ে যাবে ২৪ লক্ষ টাকা (৮ সেমিস্টারের জন্য)।

তবে, এর পরেও শিক্ষার্থী ২৪ লক্ষ টাকা সেভ করতে সক্ষম হবে, এবং সবকিছু লিগ্যাল ভাবে পার্ট-টাইম কাজ করে।

কোরিয়ান ভাষায় দক্ষতা এবং চাকরি পেতে সুবিধা

যেহেতু শিক্ষার্থী প্রথম ২ বছরে কোরিয়ান ভাষায় দক্ষ হয়ে গেছে, তাই graduation শেষ করার পর তার জন্য professional job পাওয়া খুব কঠিন হবে না। তিনি সহজেই professional job visa এর জন্য আবেদন করতে পারবেন এবং ধীরে ধীরে permanent residency (PR) এর জন্য যোগ্য হতে পারবেন।

শেষ কথা: সঠিক পরিকল্পনা করুন

সবশেষে, আমি প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে একটাই কথা বলতে চাই—কোরিয়াতে আসার আগে অবশ্যই একটি পরিকল্পনা করে আসুন। অন্তত বেসিক কোরিয়ান ভাষা শিখে আসুন, অথবা কোরিয়ান ল্যাঙ্গুয়েজ প্রোগ্রাম-এর মাধ্যমে আসুন। সঠিক পরিকল্পনা এবং ভাষার দক্ষতা আপনাকে কোরিয়াতে একটি সুন্দর ও নিরাপদ ভবিষ্যতের দিকে নিয়ে যাবে।


No comments:

Post a Comment